Thursday, October 25, 2018

চীনের মরুভূমির শিবিরে আটক লাখো মুসলমান

চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে বিচার ছাড়াই লাখো মুসলমানকে আটক করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। তারা উইঘুর সম্প্রদায়ের। তবে চীন সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ওই মানুষদের আটক রাখা হয়নি। তারা বিশেষ ‘কারিগরি বিদ্যালয়ে’ স্বেচ্ছায় ভর্তি হয়েছে। ওই বিদ্যালয়গুলোতে ‘সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থার’ বিরুদ্ধে লড়াই শেখানো হয়। তবে বিবিসির অনুসন্ধানে বাস্তবতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে।
জিনজিয়াং চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এর বড় অংশজুড়ে রয়েছে মরুভূমি ও পাহাড়ি এলাকা। এই অঞ্চলে মুসলমান উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রায় এক কোটি লোকের বাস। এ ছাড়া আরও অনেক ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ রয়েছে সেখানে।
২০১৫ সালের ১২ জুলাই একটি কৃত্রিম উপগ্রহ জিনজিয়াং এবং চীনের সর্ব পশ্চিম প্রান্তের শহরগুলোর ওপর দিয়ে যায়। ওই সময় উপগ্রহের তোলা ছবিগুলোর মধ্যে একটিতে দেখা যায়, জিনজিয়াংয়ের বিশাল মরু এলাকাটি জনশূন্য পড়ে আছে। কিন্তু চলতি বছরের ২২ এপ্রিল আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা একই এলাকার ছবিতে নতুন কিছুর অস্তিত্ব দেখা যায়। তিন বছরের কম সময়ের মধ্যে সেখানে বিশাল এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। দেখতে অনেকটা শিবিরের মতো। ওই স্থাপনার বাইরে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ দেয়াল। ওই দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ১৬টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে।
বৈশ্বিক মানচিত্রবিষয়ক সফটওয়্যার গুগল আর্থ-এ শিবিরটির অবস্থান দেখানো হয়েছে জিনজিয়াংয়ের ছোট শহর দাবানচেংয়ের পাশে। ওই স্থাপনার ব্যাপারে সরেজমিনে খোঁজ নিতে বিবিসির একটি দল দাবানচেং শহরে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে। সেখানে তাঁরা যে স্থাপনা দেখেছেন, তা জিনজিয়াং অঞ্চলে গড়ে তোলা অনেক বন্দিশিবিরের একটি। ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার কৃত্রিম উপগ্রহের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, ওই স্থাপনাগুলো ‘পুনর্শিক্ষণ বিদ্যালয়’। আরেকজন বলেন, ওই স্থাপনাগুলোয় চরমপন্থা দমনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আইনি বিধান, কর্মদক্ষতার উন্নয়ন এবং চীনা ভাষার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত উইঘুর সম্প্রদায়ের রেয়িলা আবুলাইতি বলেন, গত বছর তাঁর মা যুক্তরাজ্যে তাঁর কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। গত ২ জুন তিনি জিনজিয়াংয়ে ফেরেন। তিনি নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন কি না জানতে রেয়িলা টেলিফোন করেন। রেয়িলা বলেন, ‘মা বললেন, পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। এরপর মা শুধু বললেন, “আমাকে আর কখনো টেলিফোন করবে না”।’ রেয়িলার ধারণা, তাঁর মাকে বন্দিশিবিরে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি যত দূর জানি, চীন সরকার উইঘুর পরিচয়টি বিশ্ব থেকে মুছে ফেলতে চায়।’
উইঘুর সম্প্রদায়ের আটজন প্রবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিবিসি। এসবই যেন সাক্ষ্য। তাঁদের মধ্যে ২৯ বছর বয়সী আবলেত তুরসান তোহতি বলেন, বন্দিশিবিরে থাকা অবস্থায় প্রতিদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘুম থেকে উঠতে হতো তাঁদের। এক মিনিটের মধ্যে শরীরচর্চার জন্য মাঠে পৌঁছাতে হতো। এরপর লাইন ধরে দৌড় শুরু হতো। যাঁরা জোরে দৌড়াতে পারতেন না, তাঁদের বিশেষ কক্ষে নিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো। ওই কক্ষে দুজন লোক থাকতেন। একজন চাবুক মারার মতো বেল্ট দিয়ে পেটাতেন, অন্যজন শুধু লাথি মারতেন।
আবলেত তুরসান তোহতি আরও বলেন, তিনি যেকোনোভাবেই হোক বন্দিশিবির থেকে ছাড়া পেয়ে তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে তাঁর ৭৪ বছর বয়সী বাবা এবং ৮ বছর বয়সী ছোট ভাই শিবিরে রয়ে গেছে।
৪১ বছর বয়সী আরেক উইঘুর আবদুসালাম মুহেমেতও তুরস্কে রয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে জিনজিয়াং থেকে তিনি আটক হন। এরপর ‘শিক্ষিত’ করে তোলার কথা বলে তাঁকে নেওয়া হয় বন্দিশিবিরে। ২০১৫ সালে আটক হন ২৫ বছর বয়সী আলী (প্রকৃত নাম নয়)। বন্দিশিবিরে এক দিনের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, সেদিন তাঁরা দৌড়াচ্ছিলেন। হঠাৎ শিবিরের প্রধান ফটক দিয়ে একজন কর্মকর্তার গাড়ি ঢুকল। ওই সুযোগে উইঘুর সম্প্রদায়ের আটক এক নারীর শিশুসন্তান দৌড়ে ঢুকে পড়ল শিবিরের ভেতর। সে সোজা তার মায়ের কাছে চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা ওই নারীর চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে একদিকে নিয়ে যান। আর শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে ফটকের বাইরে রেখে আসেন।
গত চার বছরে জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন। তাঁদের পরিচয়ই তাঁদের রেখেছে সরকারের সন্দেহের মধ্যে। উইঘুরদের বিনা বিচারে, বিনা অভিযোগে আটক রেখে ‘পুনর্শিক্ষণ’ কর্মসূচিকে সফল বলে দাবি করেছে চীন।

কোটি কোটি ডলার দান করেন তাঁরা

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে ৫০ জন রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ অর্থ দানকারীর তালিকায়। অর্জিত আয় থেকে আর্তমানবতার সেবায় তাঁরা প্রতিবছর কোটি কোটি ডলার দান করেন। ২০১৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা ৪০০ ধনীর তালিকায় সেরা ১০ দানকারীর মধ্যে নয়জনই মার্কিন। ২০১৭ সালে ২৮০ কোটি ডলার দান করে এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছেন মার্কিন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ওয়ারেন বাফেট।
ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই বছর বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস দম্পতি ২৫০ কোটি ডলার দিয়ে দানের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ১৯৯৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এই দম্পতি তাঁদের প্রতিষ্ঠা করা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে আর্তমানবতার সেবার জন্য ৩৫০ কোটি ডলার দান করেছেন। ফাউন্ডেশনটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ও ডাস্টিন মস্কোভিৎজ দানের শীর্ষ তালিকায় আছেন। ২০১৫ সালে মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান প্রতিষ্ঠা করেন চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ (সিজেডআই)। এর আওতায় মানবসেবার অংশ হিসেবে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক খাতে আর্থিক সহায়তা দেন। গত বছর এই দম্পতি ৪০ কোটি ডলার দাতব্য কাজে দান করেন।
গুড ভেনচার্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা মোস্কোভিটস ও তাঁর স্ত্রী চ্যারি টুনা ২০১৭ সালে প্রাণী কল্যাণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার জন্য ২০ কোটি ৯৮ লাখ ডলার উৎসর্গ করেন।
২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন হার্ভে আঘাত হানে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন ডেল কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল। মাইকেল অ্যান্ড সুসান ডেল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি পুনঃ অর্থসংস্থানের কাজ শুরু করেন। হার্ভের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য ১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফাউন্ডেশনটি এরই মধ্যে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে।

পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে সৌদি আরব

সৌদি আরবের কাছ থেকে ঋণ সুবিধা পেয়ে উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। নিজ দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে বিষয়টি জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ইমরান। সৌদি আরব ৩০০ কোটি ডলার দিচ্ছে পাকিস্তানকে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও বার্তায় নিজ দেশের অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে ইমরান খান বলেছেন, ‘আমাদের ওপর ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে অনেক দিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। আমাদের অনেক ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।’
আর্থিক সুবিধা পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইমরান খান বলেন, সংকট উত্তরণে সৌদি আরব থেকে আমরা দারুণ প্যাকেজ পেয়েছি। যা আমাদের সংকট দূর করবে।
দুটির বেশি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র থেকে সরকার আর্থিক সহায়তার জন্য চেষ্টা করবে বলেও জানান সাবেক এই পাকিস্তানের ক্রিকেটার। ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধ করতে মধ্যস্থকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পাকিস্তান চেষ্টা করবে বলে ঘোষণা দেন ইমরান খান। বলেন, ‘আমি আপনাদের জানাতে চাই- আমরা ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব।
গত মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, অর্থনৈতিক ভারসাম্য আনতে এক বছরের জন্য পাকিস্তানকে ৩০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে সৌদি সরকার। তেল আমদানি ও অন্যান্য বিষয়ে ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ইসলামাবাদকে এক বছরের বিলম্বিত পরিশোধ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে সৌদি সরকার।
প্রসঙ্গত, ‘ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ উদ্যোগ’ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দিতে রিয়াদ সফর করছেন ইমরান খান। সৌদি সাংবাদিক খাসোগি হত্যার পর আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী অনেক ফোরাম সম্মেলনটি বর্জন করেছে। আর কেন তিনি সৌদি আরব সফর করছেন সেই কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। ইমরান জানান, তাঁর দেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটে। তাঁদের সৌদি সরকারের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। যে কারণে অন্যদের পথ অনুসরণ না করে সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন তিনি।